ক্যাম্পেইন ও সোশ্যাল মিডিয়া মেইন্টেইন করার বিষয়ে সাধারন কিছু নীতিমালা

আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর নগণ্য বান্দাদের নিয়ে তাঁর দ্বীনের কাজ করিয়ে নেন। তিনি আপনাদের দয়া করে পছন্দ করেছেন খুবই অবহেলিত এই কাজের জন্য। আমরা তাঁর কাছেই সাহায্য চাই, এবং আমরা এই সুধারণা রাখি আপনাদের এই কাজের বিনিময়ে তিনি আপনাদের ক্ষমা করে দিবেন। আপনাদের সকল গোপন ও প্রকাশ্য পাপ ক্ষমা করে দিয়ে তাঁর জান্নাতে ঠাঁই দেবেন। ক্যাম্পেইন ও সোশ্যাল মিডিয়া মেইন্টেইন করার বিষয়ে সাধারন কিছু নীতিমালা নিচে তুলে ধরছি আমরা:
১. অ্যাক্টিভিজমের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক কোনো সুযোগ সুবিধা অর্জন বা একে ব্যবসায়িক কোন উদ্যোগের সাথে যুক্ত করার চেষ্টা করবেন না। দুনিয়ায় আপনি যে কষ্টটুকু করছেন, ইনশা আল্লাহ্ তার সবটুকু বিনিময় আপনি আল্লাহর সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছ থেকে পাবেন।
২. ডোনেশন গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা আবশ্যক। সংগৃহীত এবং ব্যয়িত অর্থের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব (খাতা, মাইক্রোসফট এক্সেল বা গুগল শিটে) সংরক্ষণ করতে হবে। টাকাপয়সা সংক্রান্ত বিষয়ে আমানত রক্ষা করা খুবই জরুরি; স্বচ্ছ হিসাবরক্ষণ আখিরাতের পাশাপাশি দুনিয়াবি জটিলতাও নিরসন করবে। নির্ঝঞ্জাট ক্যাম্পেইন করার জন্য আর্থিক স্বচ্ছতা খুবই জরুরী।
৩. স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, কোচিং সেন্টার ইত্যাদি যেকোনো স্থানে ক্যাম্পেইন আয়োজনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। ৪. ছেলে ও মেয়েদের একসাথে ক্যাম্পেইন করা কঠোরভাবে পরিহার করতে হবে। ছেলেরা ছেলেদের নিয়ে এবং বোনেরা বোনদের নিয়ে অ্যাক্টিভিজম করবেন। একান্ত প্রয়োজনে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অবশ্যই মাহরামের মাধ্যমে করতে হবে।ফ্রি মিক্সিং কঠোরভাবে এড়িয়ে চলতে হবে। ছেলেদের গ্রুপে মেয়েরা এড হবেন না। মেয়েদের গ্রুপে ছেলেরা এড হবেন না। প্রকাশ্যে নিজের অতীত গুনাহর কথা বলা আমরা সমর্থন করি না। শরীয়াহর শিক্ষা এবং বাস্তবতার আলোকে এটিই আমাদের কাছে সঠিক অবস্থান মনে হয়।
৫. পেইজের ইনবক্সে ভাই ও বোনদের মধ্যে কথোপকথনের দরকার পড়লে অপ্রয়োজনীয় বিষয় এড়িয়ে চলতে হবে এবং যতোটুকু কথা বলা দরকার ততোটুকুই বলুন। অন্যকে সাহায্য করতে এসে নিজে ফিতনার মধ্যে পড়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ব্যক্তিগত আইডি থেকে ভাই ও বোনদের মধ্যে যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে।
৬. ক্যাম্পেইন করার সময় একটু মাথা খাটিয়ে কথা বলা দরকার। শ্রোতার অবস্থা অনুযায়ী কথা বলা ভালো দা’ঈর বৈশিষ্ট্য। আপনাকে এমন ভাবে এবং এমন ভাষায় কথা বলতে হবে যা আপনার সামনে থাকা শ্রোতা বুঝতে পারবে। যখন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে করবেন তখন একরকম হবে আলোচনা, কলেজ বা ভার্সিটির ছাত্রছাত্রীদের জন্য একরকম আবার অভিভাবকদের জন্য একরকম। পর্ণ আসক্তি নিয়ে কথা বলার সময় একরকম আবার হারাম রিলেশন নিয়ে কথা বলার সময় একরকম। সেমিনার বা ক্যাম্পেইন করার সময় কী বলবেন তা আগে থেকেই গুছিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তৈরি করা আমাদের লিফলেট থেকে ধারণা পাবেন ইনশা আল্লাহ্।
৭. যে বিষয়ে অ্যাক্টিভিজম করছেন সে বিষয়ে জানাশোনা থাকতে হবে। ক্যাম্পেইনের প্রয়োজনীয় সকল ম্যাটেরিয়ালস আর্টিকেলে উল্লেখ করা লেখাগুলো পড়ে ফেলুন ইনশা আল্লাহ।
৮. যেসব ফিকহি বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে, সেগুলোর ব্যাপারে কেউ অফলাইন বা অনলাইনে প্রশ্ন করলে নিজে থেকে কোন উত্তর বা সিদ্ধান্ত দিবেন না, আলেমদের থেকে জেনে নিতে বলবেন। শুধুমাত্র স্পষ্ট হারাম (মিউজিক, সিনেমা, যিনা ইত্যাদি) বিষয়ে উত্তর জানাবেন। কোন বিষয় না জানলে সরাসরি বলবেন ‘জানি না, আলেমদের থেকে জেনে নিন’। আন্দাজের উপর ভিত্তি করে উত্তর দেয়া যাবে না। মাযহাব-মাসলাক (ঘরানা) নিয়ে দ্বন্দে জড়াবেন না। এই ধরণের তর্ক করার জন্য এই উদ্যোগ না। উম্মাহর ঐক্য খুবই জরুরী।
৯. অনলাইন বা অফলাইন কোনো অবস্থাতেই অহেতুক তর্কে জড়ানো যাবে না।
১০. ধৈর্য ও বিনয় বজায় রাখুন । সহনশীল হোন। কোনো সময় মাথা গরম করা বা আক্রমণাত্মক হওয়া যাবে না। দাওয়াহ এবং ইসলাহ (সংশোধন)-এর এই কাজে মানুষের প্রতি ঠান্ডা মাথায়, দরদ, ভালোবাসা, সম্মান ও স্নেহ নিয়ে কথা বলুন। নিজেকে বিচারক বা কর্তৃপক্ষ হিসেবে নয়, বরং একজন আন্তরিক শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভাই/বোন হিসেবে উপস্থাপন করুন।
১১. কারও ছবি বিনা অনুমতিতে প্রকাশ করা যাবে না (বিশেষ করে পর্ণ আসক্তি সংক্রান্ত ক্যাম্পেইনগুলোর ক্ষেত্রে)। ক্যাম্পেইনের ছবি আপলোড করার আগে ছবিগুলোতে থাকা ব্যক্তিদের অনলাইন প্রকাশে সম্মতি আছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে হবে। মতামত জানা সম্ভব না হলে চেহারা ব্লার করে ছবি আপলোড করা যেতে পারে।
১২. পেইজের ইনবক্সের কথোপকথন মুসলিম ভাই/বোনের আমানত। অনুমতি ছাড়া কখনোই ইনবক্সের কথা অন্য কারো সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না (নিজের ভাই, বন্ধু বা স্ত্রী/স্বামী যেই হোক না কেন)। স্ক্রিনশট পোস্ট করতে চাইলে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয়ক্ষেত্রে (গোপন গুনাহ প্রকাশিত হবার সম্ভাবনা থাকলে) সব পরিচয়, নামধাম, ঠিকানা ব্লার করে দিতে হবে।
১৩.যখন কোনো ব্যক্তি (মুসলিম ভাই বা বোন) আপনার কাছে তাদের গোপন পাপের বিষয়বস্তু প্রকাশ করেন এবং এর গোপনীয়তা রক্ষার জন্য অঙ্গীকার (ওয়াদা) গ্রহণ করেন,তখন সেই তথ্য আমানত হিসেবে বিবেচিত হবে। এই পরিস্থিতিতে, তাদের সার্বিক আরোগ্য (রিকভারি) বা কল্যাণের (মাসলাহা) উদ্দেশ্যেও তাদের অভিভাবক বা সংশ্লিষ্ট কাউকে বিষয়টি অবহিত করার চিন্তা করা উচিত নয়। মুসলিম ভাইবোনদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা ট্রাস্ট নিয়ে অসতর্কতা কাম্য নয়। এই ধরনের তথ্য প্রকাশ করতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পূর্বানুমতি গ্রহণ করা অপরিহার্য। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত, এবং এই আমানতের খেয়ানতের জন্য আপনি পরকালে জবাবদিহির সম্মুখীন হবেন।
১৪. সবশেষে একটা অনুরোধ, আপনারা আন্তরিকতার সাথে কাজ করবেন। জোর করে, মনের বিরুদ্ধে বা লোক দেখানোর জন্য কোন পদক্ষেপ নিবেন না। এই কাজ আপনি করছেন পুরোপুরি আল্লাহ্কে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে, উনাকে খুশি করার জন্য। আর কাউকে না। নাম কামানোর জন্য না, নিজের সার্কেলে বাহবা পাওয়ার জন্য না। সবসময় চিন্তা করবেন আপনার কাজ, আপনার চেষ্টা, আপনার পরিশ্রম এ সব কিছুর বিনিময় দিবেন আল্লাহ্, আখিরাতে। তাই, কাজে গতি আসুক বা বাধা, মানুষ বাহবা দিক বা গালি দিক, আপনার উপদেশ কেউ শুনুক বা না শুনুক, মানুক বা না মানুক - কোনকিছুকেই কেয়ার করবেন না। জ্ঞানীদের উপদেশ নিবেন, কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে নিজেরা আলোচনা করবেন। চোখের হেফাযত করবেন, ফ্রি মিক্সিং এড়িয়ে চলবেন, টাকা পয়সার ব্যাপারে সৎ থাকবেন। বিনয়ী থাকার চেষ্টা করবেন, শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মনে অহংকার বা রিয়া যেন না আসে সেদিকে খেয়াল রাখবেন ইনশাআল্লাহ্। আল্লাহ্র কাছে সবসময় দুয়া করবেন, উনার কাছে সাহায্য চাইবেন। [কথাগুলো সর্বপ্রথম আমাদের নিজেদের উদ্দেশ্যে বলা]
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করেছেন। আমাদের কোন সামর্থ্য নেই। আল্লাহর সাহায্য ও সন্তুষ্টি ছাড়া আমাদের সাফল্যের কোন সম্ভাবনা নাই। দুনিয়াবি বিচারে এটা লস প্রজেক্ট। তাই শুধু আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করবেন। নইলে করার দরকার নেই। কারণ তাহলে এমনিতেও সত্যিকারের সাফল্য আসবেন না। সাফল্য ফেইসবুকে লাইকের সংখ্যা, ভিডিও ভাইরাল হওয়া, পেপারে নিউজ আসা, কিংবা মানুষের কাছে পাওয়া সম্মান, সমাজে সম্মান পাওয়া না। সফলতা হল আসমানে কবুল হওয়া। আর আসমানে কবুল হলে ইন শা আল্লাহ আল্লাহ আমাদের সমাজের মানুষগুলোর, আমাদের অসুস্থ ভাইবোনদের অন্তরগুলোতে সুস্থতা দিবেন।
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিক। আল্লাহ্ আপনাদের এবং আমাদের হিদায়াত দিক, হিদায়াতের উপর অটল রাখুক। এই যমীনের মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর তৌফিক দিক। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক শেষনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর। আসসালামু'আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক শেষনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর। আসসালামু'আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (
return (